টেক গ্রাউন্ড প্রতিনিধি :-  সাংহাইয়ের ওরিয়েন্টাল স্পোর্টস সেন্টারে হুয়াওয়ের কর্মকর্তারা যখন তাদের মেট ২০ সিরিজের হ্যান্ডসেটগুলোর বিস্তারিত উপস্থাপনা শেষ করে আসছিলেন আমি তখন শুনতে পেলাম- ওয়াও, টাইম ‍টু শিফট…

এমন ইভেন্টে এমন সময়ে এমন বাক্য যেকোনো সাংবাদিককেই কৌতুহলী করে তুলবে, তাকিয়ে দেখি এক চীনা তরুণী। খেয়াল করে বুঝলাম ছয়-সাত জনের একটি দল যাদের মধ্যে বাকিরা তার দেশের নাগরিক নন । ভিড় এমন যে আমার আসনের দিকে যেতে দলটিকে এক্সকিউজ মি বলা ছাড়া উপায় ছিল না।

দলটির জটলাকে দু’ভাগ করে যেতে যেতে বাকিদের থাম্বস আপ আর উত্তেজনা দেখলাম। কারণ মেয়েটির বলা পুরো বাক্যটি হলো, ওয়াও! টাইম টু শিফট আইফোন টু হু্ওয়াওয়ে।

চীনে অ্যাপলের রাজত্ব গেলেও আধিপত্য খুব একটা কমেনি, আইফোন টপ তিন-চারের মধ্যেই থাকছে। যেখানে এই ২০১৮ অক্টোবরে বাজারে তার দখল ১৪ দশমিক ২ শতাংশ।

এইখানে  হুয়াওয়ের দখল ২২ দশমিক ৬ শতাংশ।

আইফোন তার বাজার হারালেও চীনে এর উম্মাদনা লক্ষ্য করার মতো, এই দু’দিনে গাড়ির চালক, হোটেলের স্টাফ, নিরাপত্তা কর্মী এমনকি হু্ওয়ায়ের মেট ২০ উন্মোচন অনুষ্ঠানে ব্র্যান্ড প্রোমোটরের হাতেও আইফোন দেখেছি।

লন্ডনে ইন্টারন্যাশনাল লঞ্চিংয়ের পরই মেট ২০ চীনের বাজারে প্রতিন্দ্বন্দ্বীদের ভাবনায় ফেলে দিয়েছিল। শুক্রবার সাংহাই লঞ্চিংয়ে তা কপালের ভাঁজে দৃশ্যমান করেছে।

বলা হচ্ছে, হু্‌ওয়ায়ের মেট ২০ সিরিজ চীনের বাজারে আইফোনের ক্রেইজ বা উন্মাদনা ফিকে করে দেবে। বাজার দখলের হিসাবটা না হয় থাকলো, কারণ এমনিতেই পার্থক্যটা  এখন এক আর চারের।

তবে হুওয়ারের এইবার হাততালি প্রাপ্য, কারণ এক ঢিলে তিন পাখি মেরেছে সে। ঘাড়ের ওপর নিশ্বাস ফেলা অপ্পো ও ভিভোর সঙ্গে দূরত্বটা একটু বাড়িয়ে নিতে পারবে মনে করছেন চীনে ফোনটির ডিলাররা। এখন অপ্পো ২০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ভিভোর ২০ দশমিক ১ শতাংশ বাজার দখল রয়েছে।

সম্ভবত এ কারণেই  চীনা সংস্করণে নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য বেশ কিছু অ্যাপ ও নতুন সুবিধা রেখেছে। এখানে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টি দেখা যায় স্থানীয় লঞ্চিংয়েও।

আসলে কী এমন আছে এই মেট ২০ সিরিজের ফোনগুলোতে ?

প্রযুক্তির কারিগরি আলোচনার বিষয়টি পাশে রেখে যদি এক কথায় উত্তর দিতে হয় তাহলে তা হলো- দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন মেটাতে আরও কাছে চলে আসার ক্ষমতা।

স্মার্টফোনটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দৃশ্যমান মনে হবে। ক্যামেরা, থ্রিজি প্রযুক্তি, ব্যাটারি, ভয়েস রিকগনিশন, চার্জ প্রযুক্তিসহ ইত্যাদি অনেক বিষয়ে ইনোভেশন আনা হয়েছে এই মেট ২০ সিরিজে।

সম্ভবত এই মেট ২০ সিরিজ দিয়েই স্মার্টফোন প্রযুক্তির নতুন এক যুগে প্রবেশের প্রস্তুতি শেষে রানিং লাইনে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় রইল কোম্পানিটি- বলছেন অনুষ্ঠানে আসা আন্তার্জাতিক প্রযুক্তি সাংবাদিকরা।

ডিভাইসগুলোর প্রযুক্তির কারিগরি দিকগুলোর খানিকটা জেনে নিতে পারেন এখান হতে। আর এর বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন টেকশহর প্রডাক্ট রিভিতে।

আমরা বরং ঘুরে আসি লঞ্চিং ভেন্যু হতে, যে ফোন নিয়ে এত কিছু- তার অনুষ্ঠানের আয়োজনই বা কেমন করলো হুয়াওয়ে?

স্থানীয় সময় বেলা ২টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা) আমরা যখন অনুষ্ঠানস্থল ওরিয়েন্টাল স্পোর্টস সেন্টারে আসলাম তখন আমরা ‘লেট লতিফ!’ সঙ্গে গাইড হিসেবে থাকা হুওয়ায়ের কর্মকর্তা ঈগলের মুখে হাসি দেখার মতো, কারণ অনুষ্ঠান শুরু হতে বেশি দেরী নেই। পাস নেয়া, জায়গা মতো আসন পাওয়াসহ অনেক কাজ বাকি।

কিন্তু এ কোথায় এলাম রে বাবা ! কী বিশাল, কী দানবীয় কাজ-কারবার!  পুরো স্পোর্টস সেন্টারটি ৮৫ দশমিক ৯ একর জায়গা জুড়ে!

যার শুধু ফ্লোর স্পেসে আমাদের পুরো বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের তিনটি অনায়াসে ঢুকে যাবে। যেটি বাংলাদেশের  সবচেয়ে বড় সম্মেলন কেন্দ্র। এটি কিন্তু বন্ধু সম্পর্কে তৈরি করে দিয়েছিল চীনই।

আমরা সেলফি ও  ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। অডিটোরিযামের কম্পাউন্ড ও কম্পাউন্ডের বাইরে সব অতিথিরা। দলে দলে ছবি তুলছেন, মেট ২০ নিয়ে হুল্লোড় করছেন।

হুয়াওয়ের এই মেট ২০ সিরিজের স্থানীয় লঞ্চিং কাভার করতে সারা বিশ্ব হতে সাংহাই এসেছেন পাঁচ শতাধিক সাংবাদিক। যেখানে আমরা বাংলাদেশের ১৩ জন সাংবাদিকও ছিলাম।

টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী, স্মার্টফোন প্রকৌশলী, পুরো চীনজুড়ে হু্য়াওয়ের ডিস্ট্রিবিউটর-ডিলার এমনকি মেডিকেল সেবায় লাইফস্টাইল ডিভাইসের ব্যবহার নিয়ে কাজ করা গবেষকরাও ছিলেন আমন্ত্রিত। সব মিলে পাঁচ হাজারেরও বেশি আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত।

এর মধ্যে সবাই পাস হাতে পেয়ে গেলাম। গাইড থাকায় বেশিক্ষণ ঘুরতে হয়নি আমাদের, তবে ঢুকেই আরেক দফা ওয়াও। এত বিশাল মঞ্চ আর এলইডি স্ক্রিন আমাদের দেশে এখনও কারও চোখে পড়েনি।

অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজেদের অাসন পেয়ে যাই আমরা। অডিটরিয়ামে নির্ধারিত আসনের একটিও ফাঁকা নেই।

যথা সময়ে অনুষ্ঠান শুরু। পুরো অনুষ্ঠান চাইনিজ ভাষায় উপস্থাপন করলেন হুয়াওয়ের কর্মকর্তারা। অবশ্য আমাদেরকে ট্রান্সলেটর ডিভাইস দেয়া হয়েছিল।

হ্যান্ডসেট ‍উম্মোচনে প্রযুক্তিগত ইনোভেশনের মুগ্ধকর উপস্থাপন শেষে জানানো হয় স্থানীয় বাজারে মেট ২০ সিরিজের  মডেলগুলোর দাম।

চীনে মেট ২০ এর ৬জিবি+৬৪জিবি পড়বে ৩৯৯৯ ইয়েন এবং ৬জিবি+১২৮জিবি পড়বে ৪৪৯৯ ইয়েন , মেট ২০ প্রো ৬জিবি+১২৮জিবি ৫৩৯৯ ইয়েন, মেট ২০ প্রো ইউডি ৮জিবি+১২৮জিবি ৫৯৯৯ ইয়েন এবঙ ৮জিবি+১৫৬জিবি ৬৭৯৯ ইয়েন।

হুয়াওয়ে মেট ২০ এক্স ৬জিবি+১২৮জিবি এবং ৮জিবি+১৫৬জিবির দাম যথাক্রমে ৪৯৯৯ ও ৫৯৯৯ ইয়েন।

মেট ২০ আরএক্স ৮জিবি+৫১২জিবির দাম পড়বে ১২৯৯৯ ইয়েন।

তবে বাংলাদেশের বাজারে এসব ফোনে দাম কত হবে তা এখনও ঠিক হয়নি বলে জানায় কোম্পানিটি। বাংলাদেশে নভেম্বরে আসছে এই সিরিজটি।

স্থানীয় বিভিন্ন তথ্যে জানা গেলো, প্রায় দেড় বিলিয়ন জনসংখ্যার দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারীর সংখ্যা দেড় বিলিয়ন ছাড়িয়ে। দেশটির মোবাইল হ্যান্ডসেট নির্মাণকারীরা বলছেন, এর তিন ভাগের প্রায় তিন ভাগই স্মার্টফোন বলে তারা মনে করেন। অবশ্য সেই ২০১২ সালে স্ট্যাটিস্টার এক গবেষণায় বলা হয়েছিল চীনের মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী তিন ভাগের দুইভাগই স্মার্টফোনের অধিকারী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here